প্রশ্ন : ফরয ছালাতের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা যাবে কি?
উত্তর : ‘মুনাজাত’ অর্থ পরষ্পরে গোপনে কথা বলা। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ছালাতে দন্ডায়মান হয়, তখন সে যেন তার সম্মুখের দিকে থুথু না ফেলে। কেননা যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার ছালাতের স্থানে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে আল্লাহর সাথে মুনাজাত করে অর্থাৎ গোপনে কথা বলে’ (বুখারী, হা/৪১৬; মিশকাত, হা/৭১০)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব’ (মুমিন, ৬০)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘দু‘আ হ’ল ইবাদত’ (মুসনাদে আহমাদ’ হা/১৮৩৭৮; আবুদাঊদ’ হা/১৪৭৯; ইবনু মাজাহ, হা/৩৮২৮; মিশকাত’ হা/২২৩০,)। অতএব দু‘আ ইবাদত হিসাবে তার পদ্ধতি সুন্নাত মুতাবেক হ’তে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কোন পদ্ধতিতে দু‘আ করেছেন, আমাদেরকে সে পদ্ধতিতেই দু‘আ করতে হবে। তার রেখে যাওয়া পদ্ধতি ছেড়ে অন্য কোন পদ্ধতিতে দু‘আ করলে তা কবুল হওয়ার বদলে গোনাহ হবে। ফরয ছালাত শেষে সালাম ফিরানোর পরে ইমাম ও মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে ইমামের সরবে দু‘আ পাঠ ও মুক্তাদীর সশব্দে ‘আমীন, ‘আমীন’ বলার প্রচলিত প্রথাটি দ্বীনের মধ্যে একটি নতুন সৃষ্টি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম হ’তে এর পক্ষে ছহীহ বা যঈফ সনদে কোন দলীল নেই (ওবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী, মাসিক ‘মুহাদ্দিছ’ (বেনারস জুন’৮২) পৃঃ ১৯-২৯)। তবে বিভিন্ন স্থানে হাত তুলে দু‘আ করার একাধিক ছহীহ হাদীছ পাওয়া যায়। যেমন- সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময়, যুদ্ধ ক্ষেত্রে, বৃষ্টি প্রার্থনার সময়, একাকী কবর যিয়ারতের সময়, সফরে, কারো কোন ভুল-ত্রুটি দেখে, হজ্জ্বে পাথর নিক্ষেপের সময়, সাফা-মারওয়ায়, কবরের শাস্তির কথা শুনে ইত্যাদি।

মিন্নাতুল বারী বই পাওয়া যাবে কি
উত্তরমুছুন