দাড়ি রাখা ফরজ ওয়াজিব আর মুন্ডন করা হারাম বিস্তারিত দলিল - bangla hadise

bangla hadise

নতুন হাদীস , ইসলামী প্রশ্ন উত্তর, মাসালা, ইসলামী বই ।

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০

দাড়ি রাখা ফরজ ওয়াজিব আর মুন্ডন করা হারাম বিস্তারিত দলিল

 এই দলিলটা নোট করে রাখবেন দাড়ি সম্পর্কে যত রকমের মতামত আছে কোরআন হাদিস সাহাবায়ে কেরাম ও মাযহাব এর জগৎ বিখ্যাত উলামায়ে কেরাম দের মতামত সহ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ইনশাআল্লাহ।সাথে দাড়ি নিয়ে যারা তামাশা করে তাদের ইসলামের দৃষ্টিতে বিধি বিধান সমূহ:-


দাড়ি রাখা ফরজ ওয়াজিব আর মুন্ডন করা হারাম বিস্তারিত দলিল সহঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ ও অনুকরণ করার ব্যাপারে আল-কুরআনের নির্দেশ:
.
১- আল-কুরআন ও সুন্নাহর এবং আলেমদের অভিমতের সার- সংক্ষেপ হলো: দাড়ি রাখা ওয়াজিব। দাড়ি শেভ করা বা কাটা হারাম ও নাজায়েয। কেননা, রাসূলের নির্দেশ দ্বারা এখানে ওয়াজিব বুঝায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ﴾ [الحشر: ٧]
“রাসুল তোমাদেরকে যা দেয়, তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাক এবং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর।” [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭]
২- দাড়ি শেভ করা আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতা: আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামিন আল-কুরআনে বলেন,
﴿وَمَا كَانَ لِمُؤۡمِنٖ وَلَا مُؤۡمِنَةٍ إِذَا قَضَى ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَمۡرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ ٱلۡخِيَرَةُ مِنۡ أَمۡرِهِمۡۗ وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَٰلٗا مُّبِينٗا ٣٦ ﴾ [الاحزاب: ٣٦]
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ের ফায়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সে ব্যাপারে তাদের নিজেদের কোনো রকম (ভিন্ন সিদ্ধান্তের) ইখতিয়ার থাকবে না। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করল, সে নিঃসন্দেহে সুস্পষ্টভাবে গোমরাহ (পথভ্রষ্ট) হলো।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৬]
_____
.
৩- আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অবাধ্যতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿إِلَّا بَلَٰغٗا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِسَٰلَٰتِهِۦۚ وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَإِنَّ لَهُۥ نَارَ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًا ٢٣ ﴾ [الجن: ٢٣]
“শুধু আল্লাহর পক্ষ থেকে পৌঁছানো এবং তাঁর রিসালাতের বাণী প্রচারই আমার দায়িত্ব। আর যে- কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।” [সূরা আল-জিন্ন, আয়াত: ২৩]

৪- আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য না করা আমল বরবাদ হওয়ার কারণ: আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ وَلَا تُبۡطِلُوٓاْ أَعۡمَٰلَكُمۡ ٣٣ ﴾ [محمد: ٣٣]
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসুলের আনুগত্য কর, আর তোমরা তোমাদের আমলগুলো বিনষ্ট করো না।” [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ৩৩]

৫- আল্লাহ ও তার রাসূলের বাধ্য মুমিনদের কাজ হলো আল্লাহ তা‘আলা ও তার রাসূলের ফয়সালা মেনে নেওয়া। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿إِنَّمَا كَانَ قَوۡلَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ إِذَا دُعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ لِيَحۡكُمَ بَيۡنَهُمۡ أَن يَقُولُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٥١﴾ [النور: ٥١]
“মুমিনদের উক্তি তো এই –যখন তাদের মধ্যে বিচার- ফায়সালা করে দেওয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, তখন তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫১]

৬- নির্দ্বিধায় আল্লাহ তা‘আলার রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালা মানতে হবে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤۡمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيۡنَهُمۡ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۡ حَرَجٗا مِّمَّا قَضَيۡتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسۡلِيمٗا ٦٥ ﴾ [النساء: ٦٥]
“কিন্তু না, আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের ঝগড়া-বিবাদের বিচারের ভার আপনার ওপর অর্পণ না করে, অতঃপর আপনার মীমাংসা সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেয়।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৫]

৭- আল্লাহ তা‘আলা ও তার রাসূলের আনুগত্য না করলে ফিতনা ও শাস্তি অবতীর্ণ হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। সূরা নূরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَلۡيَحۡذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنۡ أَمۡرِهِۦٓ أَن تُصِيبَهُمۡ فِتۡنَةٌ أَوۡ يُصِيبَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴾ [النور: ٦٣]
“কাজেই যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপদ বা বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩]

দাড়ি রাখা ফরজ/ওয়াজিব আর মুণ্ডন করা হারাম কবিরা গুনাহ !!
_________________________________________

#আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) ইরশাদ করেন, "তোমরা গোঁফ কর্তন কর এবং দাড়ি ছেড়ে দাও (লম্বা কর ) । তোমরা অগ্নিপুজারকদের বিপরীত কর"। ( সহি বুখারি ৫৮৯৩ ইঃফাঃ ৫৩৬১ মুসলিম ১/১২৯; মুসলিম ২/৫১০)

#আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করিম (সঃ) থেকে রেওয়ায়েত করেন যে, রাসুল (সঃ) ইরশাদ করেন যে, " তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর, গোঁফ সমূহ কর্তন কর এবং দাড়ি সমূহ লম্বা কর"। (বুখারী ২/৮৭৫; মুসলিম, ২/৫০৭; সহীহ মুসলিম হাঃ নং ৬০০, ৬০২ , সহীহ বুখারী হাঃ নং ৫৮৯২,ইঃফাঃ ৫৩৬০)

#আয়শা সিদ্দিকা (রঃ) বলেন যে, রাসুল (সঃ) বলেন "দশটি কাজ প্রকৃতির অন্তর্গত । গোঁফ খাটো করা, দাড়ি বড় করা বা লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, নখ কাটা, আঙ্গুলের গিরাগুলো ঘষে মেজে ধৌত করা, বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা, নাভির নিচের লোম কাটা, কুলি করা ও মলমুত্র ত্যাগের পর পানি ব্যাবহার করা" । (মুসলিম ১/১২৯; মুসলিম, ২, ৫১১)

'তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো : দাড়ি বড় করো এবং গোঁফ ছোট করো । (বুখারী: ৫৮৯২ ইঃফাঃ ৫৩৬০ মুসলিম: ৬২৫)

#বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা রাহ. বলেন, জনৈক অগ্নিপূজক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসেছিল। তার দাড়ি মুন্ডানো ছিল ও মোচ লম্বা ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এটা কী?’ সে বলল, ‘এটা আমাদের ধর্মের নিয়ম।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘কিন্তু আমাদের দ্বীনের বিধান, আমরা মোচ কাটব ও দাড়ি লম্বা রাখব।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১৩/১১৬-১১৭, হাদীস : ২৬০১৩)

লম্বা দাড়ি কিছুটা ছোট করা সম্পর্কে
=========================

হাদীসের কিতাবে পাওয়া যায়, আবু যুর‘আ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তার দাড়ি মুঠ করে ধরতেন। এরপর এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন।মুসান্নাফ ইবন আবী শাইবা ১৩/১১২, হাদীস : ২৫৯৯২; ২৫৯৯৯

‘আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা যখন হজ্ব কিংবা ওমরা করতেন, তখন দাড়ি মুঠো করে ধরতেন এবং মুঠোর বাহিরের যা বেশি হত তা কেটে ফেলতেন।[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৪৩]

নাফে‘ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কেটে ফেলতেন।[ ইবন আবী শাইবাহ, হাদীস নং ২৫৯৯৭ ]

#যেই ব্যাপারে আল্লাহ এবং তার রাসুলের নির্দেশ রয়েছে সেই ব্যাপার ফরয না হয়ে ঐচ্ছিক কিভাবে হয়? যে ব্যাপারগুলোতে নির্দেশ না এসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে বা ফজিলত বলা হয়েছে কিন্ত নির্দেশ দেওয়া হয়নি যেমন দিনে রাতে ১২ রাকাত সুন্নাত সলাত আদায় করলে তার জন্য জান্নাতে ঘর তৈরি হয় এখানে শরিয়ত উৎসাহ দিয়েছে, ফজিলত বলেছে কিন্তু নির্দেশ করে সবার জন্য ফরয করে দেয় নি অর্থাৎ একটা হচ্ছে উৎসাহ দেওয়া বা চাইলে করতে পার বা করলে ফজিলত আছে এই পর্যায়ের আর আরেকটা আল্লাহ এবং তার রাসুলের পক্ষ থেকে নির্দেশসুচক যা কিনা আবশ্যক অর্থ বহন করে আর আল্লাহ এবং তার রাসুলের নির্দেশ আবশ্যক না হলে আর কি এমন বিষয় রয়েছে যা আবশ্যক হতে পারে?
আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা বলেন
وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।’(সুরা জিন- আয়াত ২৩)
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ
যদি তোমরা মুমিন হও, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর। (সুরা আনফাল- আয়াত ১)
فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
যারা তার (রাসুলের) নির্দেশের বিপরিতে চলে তারা সতর্ক হয়ে যাক যে, তারা ফিতনায় পরে যাবে অথবা কঠিন শাস্তি তাদেরকে স্পর্শ করবে। (সুরা নূহ- আয়াত ৬৩)

#আল্লাহুল মুস্তায়ান, আল্লাহ এবং তার রাসুলের নির্দেশ অমান্য করলে শরিয়ত কি বলেছে তা স্পষ্ট ই বুঝলেন। অনেকের আবার এই ভুল ধারনা আছে যে দাড়ি রাখা ওয়াজিব কিন্ত ফরয নয় কিন্তু তারা জানে না ওয়াজিব আর ফরয একই বিষয় অর্থাৎ ২টার অর্থই অবশ্যই পালনীয় এমনকি উলামাদের সবাই ওয়াজিব ফরজকে একই বিষয় বলেছেন যেমন ৪ মাজহাবের ইমাম তাদের ৩ জনই ওয়াজিব আর ফরজকে একই বলেছেন আর ইমাম আবু হানিফা (রঃ) কিছুটা আলাদা বলেছেন যাই হোক ২-১ জন বাদে প্রায় সব উলামায়ে দ্বীনের কাছে ফরজ আর ওয়াজিব একই বিষয় অর্থাৎ সেটা নামে ভিন্ন হলেও পালনের দিক থেকে আবশ্যকীয় বিধান।

#অবশেষে দাড়ি রাখা এবং মুণ্ডন সম্পর্কে সালাফদের অভিমত দেখুন যারা কিনা কুরআন সুন্নাহকে আমাদের চেয়ে কোটি গুণ সচ্ছভাবে বুঝতেন-

১-ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রঃ) বলেন দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম।

২- ইমাম কুরতুবি (রঃ) বলেন, দাড়ি মুণ্ডন, উঠানো বা কর্তন করা কোনটাই জায়েজ নেই

৩-সৌদী আরবের সামাহাতুশ শাইখ আল্লামা শায়খ ইবন বায (রহ.) (মৃত: ১৪২০ হি.) বলেন, দাড়িকে সংরক্ষণ করা, পরিপূর্ণ, ঘণ রাখা ও ছেড়ে দেওয়া ফরয। এই ফরযের প্রতি অবহেলা করা জায়েয নয়। আর দাড়ি মুণ্ডানো (শেভ করা) ও ছোট করা হারাম।
.
৪-শাইখ ইবন উসাইমীন রহ. (মৃত: ১৪২১ হি.) বলেন, দাড়ি রাখা ওয়াজিব, তা শেভ করা হারাম (কবীরা গুনাহ)।

৫-সৌদী আরবের সামাহাতুশ শাইখ আল্লামা শায়খ ইবন বায (রহ.) (মৃত: ১৪২০ হি.) বলেন, দাড়িকে সংরক্ষণ করা, পরিপূর্ণ, ঘণ রাখা ও ছেড়ে দেওয়া ফরয। এই ফরযের প্রতি অবহেলা করা জায়েয নয়। আর দাড়ি মুণ্ডানো (শেভ করা) ও ছোট করা হারাম।
.
৬-শাইখ ইবন উসাইমীন রহ. (মৃত: ১৪২১ হি.) বলেন, দাড়ি রাখা ওয়াজিব, তা শেভ করা হারাম (কবীরা গুনাহ)
.
.
দাড়ির ব্যাপারে চার মাযহাবের চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গি
===============================
.
❏ হানাফী মাযহাব:
১. হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘দুররে মুখতারে’ (২য় খ-/৪৫৯ পৃ.) বলা হয়েছে : পুরুষের জন্য দাড়ি কর্তন করা হারাম। নিহায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, দাড়ি এক মুষ্টির বেশি হলে তা কেটে ফেলা ওয়াজিব। কিন্তু এর চাইতে বেশি কর্তন করা যেমনটি পশ্চিমা দেশের লোকেরা এবং খোঁজা পুরুষেরা করে তা কেউ বৈধ বলেন নি। আর দাড়ি সম্পূর্ণটাই কেটে চেঁছে ফেলা হিন্দুস্থানের ইয়াহূদী ও কাফের–মুশরিকদের কাজ।”
২. হানাফী মাযহাবের মশহুর ফকীহ ইবনুল হুমাম বলেন “এক মুষ্টির ভিতর দাড়ি কর্তন করা কারো মতেই বৈধ নয়।”
৩. হানাফী মাযহাবের কিতাব ‘শারহে মানজুমাতুল আদাবের’ মধ্যে লিখেছেন, নির্ভরযোগ্য ফতোয়া হলো দাড়ি মুণ্ডানো হারাম।
____
.
❏ মালেকী মাযহাব:
১. মালেকী মাযহাব মতেও দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম। অনুরূপভাবে ছুরত বিগড়ে যাওয়া মত ছেটে ফেলাও হারাম।
২.মালিকী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ ইমাম আবুল আব্বাস কুরতুবী আল-মালিকী সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা গ্রন্থ “আল–মুফহিম” এ লিখেন ‘দাড়ি মুণ্ডানো ও উপড়ানো কোনোটাই বৈধ নয়’।
৩.মালিকী মাযহাব মতে দাড়ি কাটা হারাম। (আল আদাভী আলা শারহে কিফায়াতুত্ তালেব রাব্বানী ৮ম খণ্ড, ৮৯ পৃঃ)
_____
.
❏ শাফেঈ মাযহাব:
১. ইমাম শাফেঈ রহ. তার প্রখ্যাত গ্রন্থ “আল উম্ম” উল্লেখ করেছেন যে, দাড়ি কর্তন করা হারাম।
২. শাফেঈ মাযহাবের আলেম আযরা‘ঈ বলেন, সঠিক কথা হচ্ছে কোনো কারণ ছাড়া সম্পূর্ণ দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম।[হাওয়াশী শারওয়ানী ৯ম খণ্ড, ৩৭৬ পৃ.]
৩.শাফেঈ মাযহাবের প্রখ্যাত আলেম ইবনুর রিফ‘আহ শাফিয়ী তার বিখ্যাত রচনা ‘আলকিফায়াতু ফি শারহিত তানবিয়াহ’তে লিখেন–ইমাম শাফেঈ রহ. তার “আল–উম্ম” পুস্তকে দাড়ি মুণ্ডনকে হারাম বলেছেন।”
_____
.
❏ হাম্বলী মাযহাব:
১. শাইখুল ইসলাম ‘আল্লামা ইবন তাইমিয়্যা রহ. বলেন–দাড়ি মুণ্ডানো বা শেভ করা হারাম।
২. ইমাম আহমদ ইবন হাম্বলের মাযহাবের ‘আলেমগণও দাড়ি শেভ করাকে হারাম বলেছেন। (আল-ইনসাফ, শরহে মুন্তাহাল ইরাদাত) অতএব দাড়ি মুণ্ডন করা কবীরা গুনাহ। এমন জঘন্য কাজ থেকে আজই তওবা করা আবশ্যক। ঐ মাযহাবের বিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য কিতাব “শারহুল মুন্তাহা”তে উল্লেখ হয়েছে যে, ‘দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম’।
৩. ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল রহ. রচিত “কিতাবুয-যুহদে” ‘আকীল ইবন মোদরেক সুলামী হতে উদ্ধৃতি করেন যে, আল্লাহ জাল্লা শানুহু বনী ইসরাইলের এক রাসূলের নিকট এই অহী প্রেরণ করেন যে, তিনি যেন নিজ কওম বনী ইসরাইলকে এ কথা জানিয়ে দেন যে, তারা যেন আল্লাহ তা‘আলার শত্রুদের বিশেষ খাদ্য শুকরের মাংস না খায় এবং তাদের বিশেষ পানীয় অর্থাৎ শরাব (মদ) পান না করে এবং তাদের দাড়িকে স্টইল করে কোনো সুরত বা আকৃতি না বানায়। যদি তারা এমন করে অর্থাৎ শুকরের গোশত খায়, বা মদ পান করে, অথবা দাড়ি মুণ্ডায় বা ষ্টাইল করে কাট-ছোট করে, অথবা লম্বা লম্বা মোচ রাখে, তাহলে তারাও আমার শত্রু হবে। যেমন, তারা আমার শত্রু।[দালায়েলুল আ-সার]

দাড়ি সংক্রান্ত কতিপয় মাসআলা: জেনে নিন
===============================
.
● এক. বিশেষ কারণে দাড়ি কাটতে বাধ্য হলে কী করবেন?
.
আপনি কোথাও কারো অধীনে কাজ করলে, সে যদি দাড়ি ছোট ছোট করে রাখতে বলে, না হয় কাজে রাখবে না। যদি প্রতিষ্ঠানের মালিক বা কফিলকে দাড়ি কাটা হারাম বললে, সে আপনার উপর আরো বেশি রাগ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি পারেন অন্যত্র চাকুরী নিতে পারেন, তা উত্তম। আর যদি চাকুরী পাওয়া কঠিন হয়, বা সহজে পাওয়া যায় না, তাহলে আপনি অতীব প্রয়োজন জরুরতের কারণে দাড়ি যতটুকু ছোট করতে বলেছে, ঠিক ততটুকুই করবেন, এর বেশি নয় এবং দ্রুতই অন্যত্র চাকুরীর ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এ পথটি ‘আলেমরা জায়েয রেখেছেন অতীব জরুরতের কারণে। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ﴾ [التغابن: ١٦]
“তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর যথাসাধ্য”। [সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬]

● দুই. সেলুন দোকান দিতে হলে কী করবেন?
.
সেলুন দোকান দিতে হলে নিম্নোক্ত শর্ত সাপেক্ষে দিতে হবে:
১- শুধুমাত্র যে সব চুল কাটা বা শেভ করা জায়েয, সেগুলো কাটবে। যেমন, মাথার চুল, অনুরূপভাবে মোচ ইত্যাদি।
২- কাফেরদের এবং নারীদের স্টইলে চুলের কাট-চাট দেওয়া যাবে না।
৩- মাথার কিছু চুল ছোট করে কাটবে, কিছু লম্বা রাখবে, এমনটি করতে পারবে না, এটা শরী‘আতে হারাম কাজ।[বুখারী, হা/৫৯২১]
___
.
● তিন. চাকুরির জন্য দাড়ি শেভ করার শর্ত দিলে কী করবেন?
.
চাকুরির জন্য দাড়ি শেভ করা শর্ত দিলে এ চাকুরী করবেন না: শাইখ ইবন বায রহ. বলেন, যদি কাউকে কোনো কোম্পানী বা মালিক এ শর্তে কাজ দেয় যে, দাড়ি শেভ করতে হবে, তাহলে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এ দাড়ি শেভের শর্তে একমত না হয় এবং এ কাজ না নেয়। কেননা, রিয্‌কের বহু পথ রয়েছে, এ পথ বন্ধ নয়, বরং সর্বদা খোলা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا ٢ وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَٰلِغُ أَمۡرِهِۦۚ قَدۡ جَعَلَ ٱللَّهُ لِكُلِّ شَيۡءٖ قَدۡرٗا ٣ ﴾ [الطلاق: ٢، ٣]
“আর যে কেউ আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের বা বাঁচার পথ করে দেবেন এবং তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে দান করবেন রিযিক। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট । আল্লাহ তাঁর ইচ্ছে পূরণ করবেনই, অবশ্যই আল্লাহ সবকিছুর জন্য স্থির করেছেন সুনির্দিষ্ট মাত্রা। [সূরা আত-ত্বালাক, আয়াত: ২-৩]
.
যে কোনো কাজে আল্লাহর নাফরমানী করতে হলে সে কাজে যোগদান করবেন না। অন্য যে কোনো হালাল কাজ তালাশ করুন। তাদের সাথে আপনিও গোনাহ ও আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা লংঘনে সহযোগিতা করবেন না। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَتَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ﴾ [المائدة: ٢]
“তোমরা নেককাজ ও তাকওয়ায় পরস্পর সাহায্য করবে এবং গোনাহ ও সীমালংঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর।” [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ২]
.
আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাকে রিয্‌ক উপার্জনের তাওফীক দিন। আর রাষ্ট্রের পরিচালক ও কর্তাগণ যেন আল্লাহকে ভয় করেন। মানুষকে হারাম কাজ করতে বাধ্য না করেন এবং আল্লাহ ও রাসূলের বিধান ও ফায়সালা মাফিক রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
.
মাজমু‘ ফাতাওয়ায়ে ইবন বাযের ১০ম খণ্ডে আরো রয়েছে, দাড়ি কামানো ও কাটা হারাম, কোনো মুসলিম এটা যেন না করে, আর এ কাজে যেন কেউ কাউকে সহযোগিতা না করে। দাড়ি মুণ্ডিয়ে বা শেভ করে টাকা উপার্জন করা হারাম। আর এটা হারাম খাওয়ার (রোযগারের) সমান। যে এমন কাজ করে সে যেন তাওবা করে এবং এ কাজটি না করে। অতীতে দাড়ি কেটে যা রোজাগার করেছে তা যেন সাদাকা করে দেয়, যেহেতু সে জানতো না। আর ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক হয়ে যাও। আল্লাহ তা‘আলা সুদখোরদের বা হারামখোরদেরকে লক্ষ্য করে বলেছেন:
﴿فَمَن جَآءَهُۥ مَوۡعِظَةٞ مِّن رَّبِّهِۦ فَٱنتَهَىٰ فَلَهُۥ مَا سَلَفَ وَأَمۡرُهُۥٓ إِلَى ٱللَّهِۖ وَمَنۡ عَادَ فَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ﴾ [البقرة: ٢٧٥]
“অতএব, যার নিকট তার রব-এর পক্ষ হতে উপদেশ আসার পর সে বিরত হলো, তাহলে অতীতে যা হয়েছে তা তারই এবং তার ব্যাপার আল্লাহর এখতিয়ারে। আর যারা পুনরায় আরম্ভ করবে, তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৫]
অনেক মানুষ এ হারামটি করছে বলে আপনি যেন তাদের এমন কু-অভ্যাস দেখে প্রতারিত না হন। (প্রকাশকাল: ১০ জিলকদ, ১৪২৭)।
_____

● চার. দাড়িতে কি স্টাইল করে রাখা যাবে?
.
শয়তান বিভ্রান্ত করছে সারা দুনিয়াকে। বর্তমানে কোনো কোনো জায়গা থেকে এড দিয়ে বলছে: “দাড়িতেই করুন স্টাইল”। এ নিয়ে চলছে খেলতামাশা।
তারা বলে দিচ্ছে: আপনার চেহারা গোলাকার বা লম্বাটে হলে বা চতুর্ভূজাকৃতি হলে দাড়ির কাট কেমন দিবেন? আর যদি চেহারা বড় আকৃতি কিংবা ছোট ডিম্বাকৃতির হয়, তাহলেই বা দাড়ির কাট কেমন দিবেন? এসব কিছু তারা বলে দিচ্ছে। এসবই শয়তানের দেখানো পথ ও পন্থা। আমাদেরকে এসব থেকে সাবধান থাকতে হবে। আল্লাহু আলাম
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
:
লেখক: রফিকুল ইসলাম বিন সাঈদ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad